নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের মানুষের কাছে অতিপরিচিত বিতর্কিত ও সমালোচিত ব্যক্তি এখন হেলেনা জাহাঙ্গীর। যিনি তার অযৌক্তিক কথাবার্তায় বহুবার হাস্যরসের পাত্রী হয়েছেন। এক সময় বিএনপির ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সখ্য থাকলে এখন ক্ষমতাসীন দলের হয়ে উপ-কমিটিতে যোগদান করে তৃণমূলের কমিটিতেও বনে গেছেন। এই পদগুলো খোয়া যাওয়ার পর এখন বেরিয়ে আসছে হেলেনার নানা কীর্তিকাহিনী।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এইচএম এরশাদের সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের তোলা ছবি এখনও ভাইরাল। এবার একএকে বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল।
কখনো উপস্থাপিকা বা কখনো সাংবাদিক আবার কখনো কণ্ঠশিল্পী। রাজনীতি থেকে শুরু করে যেন প্রায় সব পেশায় যুক্ত তিনি।
জানা গেছে, শুধু আওয়ামী লীগ নয় নিজের উদ্দেশ্য পূরণে সবার সঙ্গেই সখ্যতা গড়ার চেষ্টায় ছিলেন হেলেনা। বিশেষ করে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে দেশে শীর্ষ নারী উদ্যোক্তা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। তার সঙ্গে সখ্যতা ছিলো বিএনপি জোটের শীর্ষ নেতাদের। তবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে নিজের মুখের খোলস পাল্টে আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান করে নেন। এরপরই থেকেই ফুলে ফেঁপে ওঠেন। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আবদুল মতিন খসরুর স্থলাভিষিক্ত হতে চেয়েছিলেন।
এর আগে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদেও মনোনয়ন জন্য দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন। মন্ত্রী, এমপিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা অসংখ্য ছবি তার ফেসবুকে ব্যবহার করতেন তার উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতারা বলেন, শুধু রাজনীতিই নয়, দেশে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটা ইস্যুতেই বেফাঁস ও ভিত্তিহীন বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচিত ব্যক্তি হিসেবেই হেলেনা জাহাঙ্গীরে এখন পরিচিতি। বিভিন্ন টেলিভিশনের টক শোতেও অযৌক্তিক কথা-বার্তা বলছেন।
কয়েক বছর আগে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে তথ্য অধিদফতর থেকে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড। ওই অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের একটি ছবি পোস্ট করে তার কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি নিজেই জানেন না বলেও জানিয়েছিলেন। তার ওই স্ট্যাটাস ও অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পাওয়ার প্রাপ্যতা নিয়ে পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাস্যরস ও ট্রলের সৃষ্টি হয়। তার এসব বোকাবাদ্য কীর্তিকাহিনীর পরে চালু করেন অনলাইন টিভি জয়যাত্রা। সেটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও তিনি। এরপর থেকে তিনি নিজেকে আইপি টিভি অনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন।
অভিযোগ আছে,হেলেনা জাহাঙ্গীর কয়েকদিন আগেও আওয়ামী লীগের উপ-কমিটিতে থাকলেও বেশির ভাগ সময় সরকারের বিপক্ষে কার্যক্রম করেছেন শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের খাবার সরবরাহসহ নানা তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যও দিয়েছিলেন। শুধু ওই আন্দোলনই নয়, অন্যান্য ইস্যুতেও বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় থাকতেন তবে আলোচনার বদলে তার বক্তব্যে সমালোচনাই বেশি হয়। দেশে কঠোর বিধিনিষেধ চলা অবস্থায় কারখানা চালুতে সমালোচনাকারীদের তুলোধুনো করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। বিভিন্ন সময় ফেসবুক লাইভে এসে অযৌক্তিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকেননি। আর এ নিয়ে লাইভে বিভিন্ন সময় তাকে ক্ষমা চাইতেও দেখা গেছে।
হেলেনা জাহাঙ্গীর শুধু উল্টাপাল্টা বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এক ইফতার মাহফিলে জন্মদিন উদযাপন ও রোমান্টিক গান পরিবেশন করতে গিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। দেশের প্রবীণ একজন টেলিভিশন মালিকের সঙ্গে গানের অফার পেয়েছেন বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বেকায়দায় পড়তে হয়েছিলেন।
সর্বশেষ তিনি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে জেলা, উপজেলা ও বিদেশি শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া কথা বলে।
ওই সংগঠনের সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনির। ফেসবুকে এ ঘোষণা দিলে পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
মূলত চাকরিজীবী লীগের ওই পোস্ট নিয়েই বিতর্কে পড়েন তিনি। এরপরে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে।
Leave a Reply